মঙ্গলবার ০৫ মার্চ ২০২৪ ২১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কর্ণাটকে কন্নড় ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সহিংস বিক্ষোভ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:২৯ অপরাহ্ণ

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে সবক্ষেত্রে কন্নড় ভাষা ব্যবহারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে উগ্র ডানপন্থী সংগঠন ‘কর্ণাটক রক্ষণা ভেদিক (কেআরভি)’। সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে ৬০ শতাংশ কন্নড় ভাষা রাখতে হবে- পৌর কর্তৃপক্ষ এমন আইন জারি করার পর রাজধানী বেঙ্গালুরুর রাস্তায় নামেন কেআরভি সদস্যরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বুধবার বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ইংরেজি সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেন কেআরভি কর্মীরা। তাদের দাবি, এ ধরনের সাইনবোর্ড কর্ণাটকের নিজস্ব ভাষা কন্নড়ের মর্যাদা নষ্ট করছে।

এদিকে, সহিংস আন্দোলেনর জেরে কেআরভির আহ্বায়ক টিএ নারায়ণ গৌড়াসহ ৭০০ বিক্ষোভকারীকে হেফাজতে নিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। টিএ নারায়ণ গৌড়া বলেন, আমরা কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নই। তবে কর্ণাটকে ব্যবসা করতে হলে এখানকার ভাষাকে সম্মান করতে হবে, না হলে আমরা এখানে ব্যবসা করতে দেবো না। আইন অনুযায়ী ৬০ শতাংশ সাইনবোর্ড ও নামফলকে কন্নড় ভাষা ব্যবহার করতে হবে।

বেঙ্গালুরু পুলিশ এরই মধ্যে সহিংস আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে তিনটি মামলা উত্তর-পূর্ব ডিভিশনে ও অন্যটি বেঙ্গালুরু পূর্ব বিভাগে দায়ে করা হয়েছে। বুধবার উত্তর-পূর্ব বিভাগ থেকেই প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু হয়েছিল ও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই এলাকাটিই।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বেশ কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, বেঙ্গালুরুজুড়ে লাল–হলুদ স্কার্ফ পরা মানুষ শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার মধ্যে থেকে একজন একটি সেলুনের ইংরেজি সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলছেন। অনেকে আবার এয়ারটেলের ইংরেজিতে লেখা লাল সাইনবোর্ডের ওপর কালো রং স্প্রে করে দিচ্ছেন।

তাদের একটাই দাবি, পৌর কর্তৃপক্ষের আদেশ অবিলম্বে বাস্তবান করতে হবে। বেঙ্গালুরু শহরের প্রশাসনিক সংস্থা বিবিএমপি’র প্রধান তুষার গিরি নাথ বলেন, আদেশ বাস্তবায়নের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারে থাকা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় আছে। আদেশ মানতে ব্যর্থ হলে ব্যবসার লাইসেন্স বাতিলসহ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কর্ণাটকে ভাষা নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন নতুন করে আলোচনায় আসে যখন গত অক্টোবরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বলেন, বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষ এখন এখানে বসবাস করতে শুরু করেছে। তাদের সবার উচিত কন্নড় ভাষা শেখা।

আগের মেয়াদেও সিদ্দারামাইয়া কন্নড় ভাষার ব্যাপক ব্যবহারের উপর জোর দিয়েছিলেন। সেসময় বেঙ্গালুরু মেট্রো স্টেশনগুলোর হিন্দি নামগুলো বিভিন্ন রঙের টেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ