শনিবার ১৮ মে ২০২৪ ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কাজের খোঁজে বিদেশ যাচ্ছে ৮৮ শতাংশ মানুষ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৩, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ

বর্তমানে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে মূলত দুটি কারণে। একটি কর্মসংস্থান অন্যটি পরিবারের সঙ্গে মিলিত হতে। বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থান বা পরিবারের ভবিষ্যতের খোঁজে বিদেশ যাচ্ছে। কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি জমানোর হার ৮৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, এক্ষেত্রে পছন্দের দেশ সৌদি আরব। এছাড়া ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ মানুষ বিদেশে পাড়ি জমায় তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য। পরিবারের সঙ্গে মিলিত হতে মূলত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপের দেশে যাচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২১’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

জরিপে আন্তর্জাতিক অভিবাসনের হার পাওয়া গেছে ১ দশমিক ৮৬ এবং বহির্গমনের হার ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। আন্তর্জাতিক স্থানান্তর সবচেয়ে বেশি সংঘটিত হয়েছে সৌদি আরবে, প্রতি হাজারের বিপরীতে ০ দশমিক ৬০ এবং বহির্গমনের হার ১ দশমিক ২০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক স্থানান্তরের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশ৷ সেখানে অভিবাসনের হার প্রতি হাজারে ০ দশমিক ২৭ এবং বহির্গমনের হার ০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

মোট স্থানান্তর: মোট অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর ও মোট বহির্গমনকারী জনগোষ্ঠীর সমষ্টিই হচ্ছে মোট স্থানান্তর। প্রতি হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ ও বহিঃস্থানান্তরের সংখ্যা ১১৬ দশমিক একজন। গত এক বছরের ব্যবধানে এক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। পল্লি এলাকার তুলনায় শহরাঞ্চলে মোট স্থানান্তর হারের উচ্চমাত্রা বিদ্যমান। গ্রামে মোট স্থানান্তরের মাত্রা ৭৪ দশমিক ৯ জন, এর বিপরীতে শহরাঞ্চলে তা ২৪৮ দশমিক আটজন। আটটি বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক স্থানান্তর পরিলক্ষিত হয়৷ এ বিভাগে মোট স্থানান্তর হার ২০৯ দশমিক ৮ জন, এরপরের অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগে এ হার ১০৪ দশমিক ৫ জন। সবচেয়ে কম স্থানান্তরের ঘটনা পরিলক্ষিত হয় রাজশাহীতে৷ সেখানে এ হার ৬৪ দশমিক ২ জন।

আগমন ও বহির্গমনের কারণ: জনসংখ্যার একটি বিপুল অংশ তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসবাসের লক্ষ্যে স্থানান্তরিত হয়ে (আগমন ও বহির্গমন উভয় ক্ষেত্রেই)। অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের প্রায় ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এবং বহির্গমনের প্রায় ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ ক্ষেত্রে এ প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে কৃষিকাজ এবং বৈবাহিক (বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে) কারণসমূহ স্থানান্তর প্রক্রিয়ার দুটি প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বয়ঃনির্দিষ্ট স্থানান্তর হার: মানুষের জীবনচক্র স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় কীভাবে প্রভাব বিস্তার করে, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়ার জন্য বয়ঃনির্দিষ্ট স্থানান্তর হার সম্পর্কে জানা প্রয়োজন বলে দাবি বিবিএসের। আশ্চর্যজনকভাবে নারীদের মধ্যে স্থানান্তরের হার সবচেয়ে বেশি ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে৷ বয়সের এ ক্রমপর্যায়ে পুরুষদের স্থানান্তরের মাত্রা নারীদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম৷ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ০-৪ বছর বয়সী শিশুদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছে, ফলে এ বয়সভিত্তিক শিশুদের স্থানান্তরের ক্ষেত্রে উচ্চ হার পরিলক্ষিত হয়৷ এ বিষয়টি ছেলে ও মেয়ে উভয় শিশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

জরিপে উঠে এসেছে, অভ্যন্তর ও আন্তর্জাতিক উভয় স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বয়সের ধরনগুলো অত্যন্ত বিক্ষিপ্ত এবং এগুলোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত উপসংহারে পৌঁছানো যায় না। এ বিষয়টি পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথকভাবে এবং উভয় লিঙ্গের জন্য সমষ্টিগতভাবেও প্রযোজ্য। বিশেষ করে শূন্য থেকে ৪৪ বছর বয়সভিত্তিক গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য। তারপর এ হার ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেতে থাকে এবং ৭৫ বছর ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ে তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে৷

জরিপে জানানো হয়, অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে পল্লি এলাকায় আগমনের হার প্রতি হাজার জনসংখ্যায় ৩৯ দশমিক ৮ জন ও শহর অঞ্চলে আগমনের হার ১২৫ দশমিক ৯। অন্যদিকে বহির্গমনের হার পল্লি এলাকা থেকে প্রতি হাজারে ৩৫ দশমিক একজন ও শহর এলাকা থেকে ১২২ দশমিক ৯ জন।

প্রকল্পের পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, স্থানান্তর, বিশেষভাবে স্থানিক স্থানান্তর বলতে স্বাভাবিক বাসস্থানের জায়গা পরিবর্তন এবং একটি রাজনৈতিক সীমানা অতিক্রম করে একটি নতুন বা ভিন্ন জায়গার জীবনযাত্রা গ্রহণ করাকে বোঝায়৷ এ স্থানান্তর একজন ব্যক্তি, একটি পরিবার বা একটি বড় মানবগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও সংঘটিত হতে পারে৷ জরিপ এলাকায় অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর সম্পর্কিত উপাত্তসমূহ সংগ্রহ করা হয়েছিল৷ জরিপে বিবাহ ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে কমপক্ষে ছয় মাসের জন্য কেউ বসবাসের জায়গা বদল করলে সেটিকে স্থানান্তর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আর বিবাহের ক্ষেত্রে এ সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি৷ অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর শব্দযুগল বাসস্থানের মধ্যে বসবাসের পরিবর্তনগুলোকে বোঝাতে এবং নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে অন্য স্থানে আবাসিক স্থানান্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়৷ দেশের অভ্যন্তরে স্থানান্তর সীমানা বলতে এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগ, এক জেলা থেকে অন্য জেলা অথবা এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে স্থানান্তর হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, উন্নততর জীবনযাপন ও জীবিকার অবারিত সুযোগ সন্ধান করার জন্য অতীতে মানুষ স্থানান্তরিত হওয়ার কৌশল বেছে নিত। এখানে অভিবাসন আর্থসামাজিক উন্নয়ন, বিশেষ করে নগরায়ণ গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হিসেবে কাজ করে৷

২০২১ সালে নমুনা এলাকা থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, প্রতি হাজার জনগোষ্ঠীর বিপরীতে সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের হার ৬০ দশমিক ২ জন। প্রতি হাজার জনগোষ্ঠীর বিপরীতে বহির্গমনের অনুপাতের সঙ্গে এটিকে তুলনা করলে দেখা যায়, দুটির মধ্যে নিট ব্যবধান ৪ দশমিক ৩ জন৷ কেননা প্রতি হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে বহির্গমনকারী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫৫ দশমিক ৯ জন। ২০২০ সালে এ হার ছিল ৬৯ দশমিক ২ ও ৬৮ দশমিক ৮ জন। প্রতি হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে হ্রাসের হার ০ দশমিক ৪ জন৷ পুরুষ জনগোষ্ঠীর স্থানান্তরের হার নারীদের তুলনায় অনেক কম। প্রতি হাজারে স্থানান্তরিত হয়েছেন মাত্র ৫১.১ জন, সেখানে নারীদের স্থানান্তরের এ হার প্রতি হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে ৬৯.১ জন৷ বহির্গমনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়৷ পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার প্রতি হাজারের বিপরীতে ৪৬ দশমিক ৫ জন এবং নারীদের ক্ষেত্রে তা ৬৫ দশমিক ০ জনেরও বেশি৷

পল্লি অঞ্চলের তুলনায় শহুরে মানুষদের অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের সম্ভাবনা তিনগুণ বেশি৷ শহুরে মানুষদের বহির্গমনের প্রবণতাও পল্লি জনগোষ্ঠীর তুলনায় বেশি৷ প্রতি এক হাজার জনগোষ্ঠীর বিপরীতে পল্লি অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক স্থানান্তর ৪ দশমিক ৭ জন হারে বেড়েছে৷ শহরাঞ্চলেও প্রতি এক হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে এ বৃদ্ধি ঘটেছে ৩ দশমিক ০ জন হারো পূর্ববর্তী বছরগুলোর নিট স্থানান্তর পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পল্লি অঞ্চলে এটির বৃদ্ধি ঘটলেও শহরাঞ্চলে তা হ্রাস পেয়েছে।

স্থানান্তরের মাত্রা ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ৷ এ বিভাগে প্রতি হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর ১০৭.২ জন এবং বহির্গমন ১০২.৫ জন৷ এক্ষেত্রে প্রতি হাজারে নিট বৃদ্ধি ঘটেছে প্রায় ৪ দশমিক ৭ জন৷







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ