রবিবার ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও ফরচুন বরিশালের শিরোপার লড়াই আজ

বিপিএলে ৪৫ ম্যাচের পর শিরোপার লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত। এবার শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে সাত দলের লড়াইয়ে টিকে থাকা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও ফরচুন বরিশাল। আজ শুক্রবার মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই দল। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি মাঠে গড়াবে সন্ধ্যা সাতটায়। ম্যাচটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬৪টি দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা দেখতে পারবেন। বাংলাদেশের গাজী টেলিভিশন ও টি স্পোর্টসে দেখা যাবে জমজমাট এই লড়াই।

এবারের বিপিএলের সবচেয়ে তারকাবহুল দুটি দল হলো কুমিল্লা ও বরিশাল। মূলত ভালো মানের বিদেশি ক্রিকেটার এনে টুর্নামেন্টের আকর্ষণ বাড়িয়েছে তারা। সেই সঙ্গে দেশীয়দের কম্বিনেশনেও সেরা ছিল এ দুটি দলে। শুধু কাগজে কলমেই সেরার তকমা ছিল না, মাঠের পারফরম্যান্সেও সেরাটা দিয়েই শিরোপার মঞ্চে উঠেছে দল দুটি। বরিশাল এর আগে তিনবার ফাইনাল খেললেও একবারও শিরোপা ছুঁয়ে দেখতে পারেনি।

Ad

অন্যদিকে বিপিএল মানেই যেন কুমিল্লার আধিপত্য। আগের নয় আসরের মধ্যে চারবার ফাইনালে উঠে চারবারই শিরোপা ছুঁয়েছে তারা। বিপিএলে প্রথমবার অংশ নিয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে বাজিমাত করে কুমিল্লা। দুই আসর পর ২০১৮ সালে ফের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তোলে। এরপর ২০২২ ও ২০২৩ বিপিএলে টানা দুই শিরোপা জেতে দলটি। চলতি আসরে প্রথম কোয়ালিফায়ারে রংপুর রাইডার্সকে উড়িয়ে দিয়ে পঞ্চমবারের মতো ফাইনালে ওঠে। এবার তাদের প্রতিপক্ষ বরিশাল। ২০২২ সালে এই দলকে হারিয়ে তৃতীয় শিরোপা ঘরে তুলেছিল মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের শিষ্যরা। আজ শুক্রবার বরিশালকে হারাতে পারলেই পঞ্চম শিরোপার পাশাপাশি হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হবে কুমিল্লা।

বিপিএলে কুমিল্লার এটি পঞ্চম ফাইনাল, টানা তৃতীয়। এর আগে ফাইনালে উঠে কখনোই শিরোপা বঞ্চিত হয়নি তারা। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে আশাবাদী দলটির উইকেট কিপার ব্যাটার জাকের আলী অনিক, ‘বরিশাল অনেক ভালো পারফরম্যান্স করেই ফাইনালে এসেছে। সব প্রতিপক্ষকেই আমরা সবসময় সম্মান করি। ফাইনালেও এর ব্যতিক্রম হবে না। সবসময় আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করি। ফাইনালেও এই চেষ্টাই করবো।’

অন্যদিকে বরিশাল ফ্যাঞ্চাইজি চতুর্থবারের মতো ফাইনালে উঠেছে। ২০১২ সালে প্রথম আসরে তারা হেরেছে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের কাছে। ২০১৫ সালেও কুমিল্লার কাছে হারে বরিশাল। ভাগ্য পাল্টায়নি ২০২২ সালেও। এবারও কুমিল্লার কাছে শিরোপা হারায় তারা। এক বছর পর আরও একটি ফাইনালে তামিমের নেতৃত্বে শিরোপার লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছে বরিশাল। এবারও তাদের সামনে প্রতিপক্ষ কুমিল্লা। দুইবার তাদের কাছে হোঁচট খাওয়া বরিশাল কি এবার পারবে শিরোপা খরা কাটাতে?

মুশফিক বলেছেন, ‘দেখা যাক, আমার তো ইচ্ছা আছে (প্রথমবার ট্রফি জয়ের)। সবারই তো ইচ্ছা থাকে, বাকিটা ওপরওয়ালার ইচ্ছা। এত দূর এসেছি… চেষ্টা থাকবে যেন চ্যাম্পিয়নশিপটা নিতে পারি। কুমিল্লা কখনও ফাইনালে হারেনি। কে জানে, হয়তো এবারই প্রথম হারবে!’

দুই দলের যারাই শিরোপা জিতুক, শুক্রবার লড়াইটা হবে সমানে সমান। দুটি দলই দেশি বিদেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে বেশ শক্তিশালী। কুমিল্লাতে লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, জাকের, তানভীর ইসলামসহ বেশ কয়েকজন দেশি প্রভাব বিস্তারকারী ক্রিকেটার আছেন। বিদেশি তারকাও যারা আছেন, তারা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা। মঈন আলী, আন্দ্রে রাসেল ও সুনিল নারিনরা নিজেদের দিনে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন সেটি সবারই জানা।

বরিশালও তারকাবহুল দল। বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব ফেলা তামিম ইকবাল, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ খেলছেন এই দলে। এর বাইরে আছেন সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও তাইজুল ইসলামের মতো ক্রিকেটার। বিদেশি ক্রিকেটারদের তারকাখ্যাতিও কম নয়। ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার কাইল মায়ার্স, ওবেড ম্যাককয় আছেন দলটিতে। শেষ দিকে এসে বরিশালে যোগ দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিস্ফোরক ব্যাটার ডেভিড মিলারও। এমন দল নিয়ে শিরোপা জিততে না পারা বড় আক্ষেপ হবে বরিশালের জন্য।

তবে ক্রিকেট নির্দিষ্ট দিনের খেলা। কাগজে-কলমের সেরা দল নিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। জিততে গেলে নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট ম্যাচে সেরা ক্রিকেট খেলতেই হয়। মিরাজও সেটা জানেন। বৃহস্পতিবার ট্রফি উন্মোচনে তিনি সেটাই মনে করিয়ে দিলেন, ‘নির্দিষ্ট দিনে ভালো খেলার ওপর নির্ভর করছে সব কিছু, ক্রিকেট এমন এক খেলা, যেদিন যে ভালো করবে সে জিতবে। এর আগেও বরিশাল-কুমিল্লা ফাইনাল হয়েছে, বরিশাল এক রানে হেরেছে। আশা করি এবার আরও একটা ভালো ম্যাচ উপহার দিতে পারবো, সবাই উপভোগ করবে।’

তবে বরিশালের চেয়ে একটি জায়গায় এগিয়ে কুমিল্লা। ফাইনালে নির্ভার হয়ে খেলার তরিকা খুব ভালো করেই জানা দলটির। তবে বরিশালের এখানে ঘাটতি প্রকট। তিন বার ফাইনাল খেলে এই দলটি শিরোপার দেখা পায়নি এখনও। এবার তামিমের নেতৃত্বে বরিশাল শিরোপা খরা কাটাতে পারে কিনা সেটাই দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকরা। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ফয়সালা হয়ে যাবে কার হাতে উঠবে বিপিএলের দশম আসরের শিরোপা।