শনিবার ০২ মার্চ ২০২৪ ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

গত আটটি নভেম্বরের মধ্যে ঢাকার বাতাস সবচেয়ে ভালো ছিল এবার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৬:৫২ অপরাহ্ণ

প্রতিবছর শীতকালে ঢাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। এবছর শীত আসার আগেই নগরবাসীর দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এরইমধ্যে গণপরিবহন কিংবা সড়কে চলাফেরায় নাকে হাত দিয়ে চলতে হচ্ছে। এমনকি আজ মঙ্গলবারও (৫ ডিসেম্বর) সকাল ৮টার দিকে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে ছিল ঢাকা। তবে গত নভেম্বর মাসে রাজধানীর বায়ুমান তুলনামূলক ভালো ছিল বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)। সংস্থাটি এক গবেষণা বরাত দিয়ে বলছে, গত ৮ বছরের নভেম্বর মাসগুলোর মধ্যে গড়ে ঢাকার আবহাওয়া চলতি নভেম্বরে ‘বেশ ভালো’ ছিল।

এদিকে বায়ুর মানমাত্রা নির্ধারণকারী সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরেই বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৫ থেকে ৭ এর মধ্যেই ঘুরছিল। তবে আজ সকাল ৮টার দিকে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে চলে আসে। পরে বেলা ১১টার দিকে কিছুটা নেমে অবস্থান হয় সপ্তম, এসময় একিউআই মাত্রা ছিল ১৮৬। মান অনুযায়ী, এই মাত্রাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ সময় দূষিত শহরের তালিকায় সবার উপরে ছিল পাকিস্তানের শহর লাহোর, তাদের একিআই মাত্রা ছিল ২১১।

বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রাপ্ত ২০১৬ হতে ২০২৩ সালের অর্থাৎ ঢাকার গত ৮ বছরের বায়ুমান সূচক বা একিউআই-এর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্ট সংস্থা বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)। সাধারণত বছরের নভেম্বর মাসেই বায়ুদূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। সেই বিবেচনায় গত ৮ বছরের ৮টি নভেম্বর মাসের তথ্য নিয়ে গবেষণা করেছে সংস্থাটি।

ক্যাপস-এর গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে জানা যায়, ২০২৩ সালে নভেম্বর মাসের বায়ুদূষণ আগের ৭ বছরের নভেম্বর মাসের গড় মানের তুলনায় শতকরা ০ দশমিক ৭০ ভাগ কম ছিল।

গত ৮ বছরের মধ্যে ২০১৬ সালে ঢাকার নভেম্বর মাসের বায়ুমান সূচক (একিআই) গড় মাত্রা ১৬৯ ছিল, ২০১৭ সালে ছিল ১৭৮, ২০১৮ সালে ছিল ১৯৭, ২০১৯ সালে ছিল ১৫৯, ২০২০ সালে ছিল ১৬৩, ২০২১ সালে ছিল ১৯৫ এবং ২০২২ সালের বায়ুমান সূচক বা একিউআই ২০২১ সালের তুলনায় কমে গিয়ে গড়ে ১৭৬ দশমিক ২-এ এসে দাঁড়িয়েছিল। অপরদিকে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে বায়ুমান সূচক আগের বছরগুলোর তুলনায় আরও কমে গিয়ে ১৭৫ দশমিক ৬-এ এসে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণা ফলাফল বিশ্লেষণে করে তারা জানায়, বায়ুমান মাত্রা ০ থেকে ১৫০ একিউআই থাকলে তা লিমিটের (সীমার) মধ্যে ধরা হয়। এরমধ্যে ৫০ পর্যন্ত একিউআই মাত্রাকে ভালো বলে ধরা হয়। গত আট বছরের মধ্যে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসের মাত্র একদিন ঢাকার মানুষ ‘ভালো’ বায়ু সেবন করতে পেরেছিল। আর চলতি বছরের নভেম্বর দুই দিন ‘মধ্যম’ (একিউআই মাত্রা ৫১ থেকে ১০০) মানের বায়ু সেবন করেছে নগরবাসী। চার দিন ছিল ‘সতর্কতা’ (১০১ থেকে ১৫০ একিউআই মাত্রার) মানের বায়ু। এই মাসের অন্য ১৮ দিনই ঢাকার বায়ুমান ছিল ‘অস্বাস্থ্যকর’ (১৫১ থেকে ২০০ একিউআই মাত্রা) এবং ছয় দিন ছিল ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ (২০১ থেকে ৩০০ একিউআই মাত্রা)।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞ, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘বায়ু দূষণের বর্তমান প্রধান কারণ হচ্ছে রাস্তা। কারণ রাস্তায় নানা সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলতেই থাকে। ঢাকা শহরের রাস্তা বেশির ভাগ সময়ই খোড়াখুড়ি থাকেই। আর ফিটনেসবিহীন যানবাহন বাতাসে দূষণ ছড়ায়। শীত এলে এই দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। গত কয়েকবছরের তুলনায় এই বছরের নভেম্বর মাসে অবরোধ হরতালের কারণে যানবাহনের চলাচল কম ছিল। এছাড়া উন্নয়ন কাজও কমে এসেছে। এতে নভেম্বরে যে দূষণ হবার কথা তার তুলনায় এবার নভেম্বরে দূষণ কম হয়েছে।’ যদিও ডিসেম্বর মাসে বায়ুদূষণ আবার শঙ্কা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ