বুধবার ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে ১৫ হাজার সিএনজি কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে

21

নিজস্ব প্রতিনিধি:চাঁদপুর জেলায় অনুমোদনপ্রাপ্ত সিএনজি চালিত অটোরিকশার সংখ্যা মাত্র ৮ হাজার হলেও, বাস্তবে সড়কে চলাচল করছে প্রায় ২৫ হাজারেরও বেশি সিএনজি। এতে একদিকে যেমন সড়কে শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি সরকার প্রতিবছর প্রায় ৩৫ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

Ad

জেলা শহর ও এর বাইরের আঞ্চলিক সড়ক, চাঁদপুর-কুমিল্লা এবং চাঁদপুর-রায়পুর মহাসড়কে প্রতিনিয়তই দেখা মিলছে এসব অনিবন্ধিত যানবাহনের। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত দেড় দশকে ৮ হাজার সিএনজি নিবন্ধিত হলেও, বাকি প্রায় ১৫ হাজার সিএনজি কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নতুন অনেক সিএনজি কোনো রকম নিবন্ধন ছাড়াই সড়কে নামছে। পুরনো অনেক গাড়িরও নেই ফিটনেস সার্টিফিকেট। অথচ এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেই তেমন কোনো কঠোর অভিযান।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা—বাসস্ট্যান্ড, শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ, কালীবাড়ি, ওয়ারলেসসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্ট্যান্ড। এসব স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিনই হাজার হাজার সিএনজি ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে।

প্রতিদিন প্রতিটি সিএনজি থেকে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের পাশাপাশি পৌরসভার পক্ষ থেকেও। এই চাঁদা থেকে লাভবান হচ্ছেন চেইন মাস্টার, চালক ও কিছু প্রভাবশালী মহল। অথচ সরকার বৈধ পথে পেলে প্রতি বছর আয় করতে পারতো প্রায় ৩৫ কোটি টাকা রাজস্ব।

হাজীগঞ্জ উপজেলার সিএনজি চালক-মনির হোসেন জানান, “নিবন্ধন আপাতত বন্ধ আছে। বিআরটিএ অফিসে গিয়েও কোনো লাভ হয় না। সরকার চালু করলে আমরা নিবন্ধন করে নেব। আমরা কেউই আইন ভাঙতে চাই না।”

এ বিষয়ে চাঁদপুর বিআরটিএ অফিসের মো. জিয়া বলেন, “২০১৪ সাল পর্যন্ত ৮২০০ সিএনজি নিবন্ধন হয়েছে, যার মধ্যে বেবি ট্যাক্সিও রয়েছে। বর্তমানে নতুন সিএনজি নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অধিকাংশ চালকদেরই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই।”

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম জানান, “ফিটনেসবিহীন ও অনিবন্ধিত সিএনজির বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। ট্রাফিক পুলিশ এবং জেলা পুলিশ যৌথভাবে এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।”

অভিযোগের আঙুল উঠছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির দিকেও। আইন প্রয়োগে আরও কঠোরতা এবং দ্রুত সিএনজি নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু না হলে, এই অরাজকতা থামানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।