সোমবার ১৭ জুন ২০২৪ ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জাকাত সম্প্রীতি বাড়ায়
প্রকাশ: রবিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৩, ০১:০০ অপরাহ্ণ

জাকাত ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম। কোনও ব্যক্তি যখন কালেমা পড়ে ইসলামে প্রবেশ করে, তখন থেকেই ইসলামের যাবতীয় বিধি-নির্দেশ মেনে চলা তার জন্যে অপরিহার্য হয়ে পড়ে। জাকাত আদায় করা সচ্ছল মুসলমানের প্রতি সৃষ্টিকর্তার অলঙ্ঘনীয় নির্দেশ। কোনও মুসলমান স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে এ নির্দেশ অমান্য করার অর্থই হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে অমান্য করা।

কোরআন কারিমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, নিশ্চয়ই যারা সত্যকে বিশ্বাস করে, সৎকর্ম করে, নামাজ কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে, তাদের প্রতিফল তাদের প্রতিপালকের কাছে সংরক্ষিত। তাদের কোনও ভয় বা পেরেশানি থাকবে না। (সূরা বাকারা : ২৭৭)

যাকাত ক্যালকুলেটর: যাকাত একটি ফরজ ইবাদাত, যার মাধ্যমে ধনীদের সম্পদে গরীবদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। যাকাত আদায় করতে এর যথাযথভাবে হিসেব করা আবশ্যক। যাকাত আদায়কারীর যাকাত হিসাব করা সহজ করতে নগদ ইসলামিক নিয়ে এলো যাকাত ক্যালকুলেটর। নগদ ইসলামিক অ্যাপে লগইন করে যাকাত ক্যালকুলেটর-এ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে জেনে নিতে পারবেন আপনার আদায়যোগ্য যাকাতের পরিমাণ। এছাড়াও যাকাতের পরিমাণ নির্ণয়ের পর ডোনেশন ফিচারের মাধ্যমে ইসলামিক প্রতিষ্ঠানে যাকাত প্রদান করা যাবে।

অন্য আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, আমার রহমত সব বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করেছে। সুতরাং আমি তা লিখে দেবো তাদের জন্য যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং জাকাত প্রদান করে। (সূরা আল আরাফ: ১৫৬)

হাদিসে বিবৃত হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘সদকা গুনাহকে মিটিয়ে দেয় আগুন যেভাবে পানিকে নিভিয়ে দেয়।’ (সহিহ বুখারি)

জাকাত প্রদানে যেমনিভাবে অনেক পারলৌকিক উপকারিতা আছে তেমনিভাবে ইহলৌকিক উপকারিতাও রয়েছে―

এক. জাকাত পরিপূর্ণ ঈমান-সত্যায়নকারী: পৃথিবীতে মানুষের নিকটে সবচেয়ে প্রিয় বস্তু হলো ধন-সম্পদ। আর সে কখনই তা দান করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তার নিকটে অধিক প্রিয় না হবে।

হাদিসে বিবৃত হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন― তোমার কেউ পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার সবকিছু থেকে আমাকে ভালো না বাসবে। (সহিহ বুখারি: ১৫)

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন―তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করবে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে। (সহিহ বুখারি: ১৩)

দুই. জাকাত-সদকা মুসলমানের সেতুবন্ধন: হাদিস শরিফে এসেছে: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন―দাতা আল্লাহর কাছে প্রিয়, মানুষের কাছে প্রিয়, জান্নাতের নিকটতম; জাহান্নাম থেকে দূরে। সাধারণ দাতা অধিক ইবাদতকারী কৃপণ অপেক্ষায় আল্লাহর নিকট বেশি প্রিয়। (সুনানে তিরমিজি)

এ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হলো জাকাত প্রদানকারীকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনও ভালোবাসেন, মানুষেরাও ভালোবাসেন আর এভাবেই সমাজে মুসলমানদের মধ্যে মুহাব্বত-ভালোবাসা, ভাইয়ে-ভাইয়ের প্রতি হামদরদি বৃদ্ধি হয়।

তিন. জাকাত সম্প্রীতি বাড়ায় : জাকাত আদায়ের মাধ্যমে সম্প্রীতি বাড়ে। এমনকি জাকাত পুরো মুসলিম জাতিকে একটি পরিবারে রূপান্তরিত করে। ধনীরা যখন গরিবদেরকে জাকাত প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করে তখন গরিবরাও তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ধনীদের সহযোগিতা করে। ফলে তারা পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যায়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন―‘তুমি অনুগ্রহ করো যেমনিভাবে আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন’। (সূরা কাসাস: ৭৭)

হাদিসে বিবৃত হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন―‘এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। সে তার ওপর জুলুম করবে না এবং তাকে শত্রুর হাতে সোপর্দ করবে না। যে তার ভাইয়ের অভাব পূরণ করবে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কিয়ামতের দিন তার বিপদগুলো দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনও মুসলমানের দোষ ঢেকে রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবেন’। (সহিহ বুখারি: ৬৯১১)

জাকাত সম্প্রীতি বাড়ায়। তাই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকটাত্মীয়কে প্ৰথমে যাকাত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে বিবৃত হয়েছে―এক ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জিজ্ঞেস করলেন, সাদাকাসমূহের মাঝে কোন সাদাকাটি উত্তম? তিনি বললেন: “সম্পর্ক ছিন্নকারী নিকটাত্মীয়দেরকে দেওয়া সাদাকা।” (সুনানে দারেমি: ১৭১৬)

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন―যে দরিদ্র-মিসকিনদেরকে দান–খয়রাত করে সে শুধু সাধারণ দানের সওয়াব পায়; কিন্তু যে ব্যক্তি আত্মীয়–স্বজনকে দান করে, সে দুইটি সাওয়াব পায়; এক. সাধারণ দানের সাওয়াব দুই. আত্মীয়তা রক্ষার সাওয়াব। (সুনানে দারেমি: ১৭১৮)

উল্লেখিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হলো যে জাকাত, দান-অনুদানের মাধ্যমে মুসলমানদের পরস্পরের ভ্রাতৃত্ব মজবুত হয়। ভালোবাসা, সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি বাড়ে। তাই আমাদের উচিত ইহলৌকিক, পারলৌকিক উপকার এবং কল্যাণের প্রতি লক্ষ্য করে স্বউদ্যোগ, আগ্রহ-আনন্দের সাথে জাকাত প্রদান করা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ