শুক্রবার ১৯ এপ্রিল ২০২৪ ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

টাইটানের পরিণতির কারণ কীভাবে খুঁজবেন তদন্তকারীরা ?
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জুন ২০২৩, ০৮:০৯ অপরাহ্ণ

টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়ে পাঁচ আরোহীসহ পানির চাপে বিস্ফোরিত হয়েছে সাবমেরিন টাইটান। বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন কোস্টগার্ড এমন ধারণার কথা জানিয়েছে। টাইটানিক জাহাজের কাছ থেকে বিস্ফোরিত টাইটানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে উদ্ধার অভিযানের মূল মনোযোগ এখন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে। কীভাবে তদন্তকারীরা এই কারণ খুঁজে বের করতে পারেন তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কথা বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

মার্কিন কোস্টগার্ডের রিয়ার অ্যাডমিরাল জন মাউজারের মতে, তারা সমুদ্রের তলদেশে যা পেয়েছেন তা ভয়াবহ অন্তর্মুখী বিস্ফোরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কারণ তারা দুটি ধ্বংসাবশেষ পেয়েছেন। একটি টাইটানের পেছনের দিকের একটি অংশ এবং অপরটি এর ল্যান্ডিং ফ্রেম, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে ডুবোযানটি পানির চাপে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে গেছে।

ব্রিটেনের রয়্যাল নেভির সাবেক সাবমেরিন ক্যাপ্টেন রায়ান র‍্যামসের মতে, এমনটি কেন ঘটেছে এবং এটি এড়াতে কী করার ছিল তা সম্পর্কে জানতে কর্তৃপক্ষ খুঁজে পাওয়া সব ধ্বাংসাবশেষ একত্রিত করবে।

তিনি বলেন, এটায় কোনও ব্ল্যাক বক্স নেই। ফলে ডুবোযানটির সর্বশেষ গতিবিধি জানার সুযোগ থাকছে না। এটি বাদে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা তদন্তের সঙ্গে এর তেমন কোনও পার্থক্য নেই।

তার মতে, তদন্তকারীরা ধ্বংসাবশেষগুলো সাগর থেকে তুলে আনার পর ভেঙে যাওয়া কাঠামোগুলোর কার্বন গঠন পর্যবেক্ষণ করবেন। শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছে তা বুঝতে এটি খুব সহযোগিতা করবে। প্রতিটি টুকরো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে। কার্বন ফাইবারের ফিলামেন্টের দিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। খুঁজে দেখা হবে ‘মাইক্রোস্কোপিক টিয়ার্স’। এগুলো থেকে কোন স্থানে ফাটল ধরেছিল তা সম্পর্কে ইঙ্গিত পাওয়া যাবে।

টাইটানের পরিণতির কারণ কীভাবে খুঁজবেন তদন্তকারীরা
তদন্তকারীদের যে বড় প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে হবে তা হলো অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে এমনটি ঘটেছিল কিনা।

ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের অধ্যাপক ব্লেয়ার থর্নটন বলেন, যদি এমনটি হয়ে থাকে তাহলে টাইটান অবিশ্বাস্য রকমের চাপে পড়েছিল, যে চাপের ভর আইফেল টাওয়ারের সমান হতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা টাইটানের ভেতরে একটি খুব শক্তিশালী অন্তর্মুখী বিস্ফোরণের কথা বলছি।

কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ইঙ্গিত দিয়েছেন, এক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দেবে। আর তা হলো পর্যাপ্ত পরীক্ষার অভাবে কি এমনটি ঘটেছে?

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক রডেরিক অ্যা স্মিথ বলেন, কার্বন ফাইবার এবং টাইটানিয়ামের সংযোগ খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। অন্তর্মুখী বিস্ফোরণের তীব্রতার কারণে ঘটনাগুলোর পরম্পরা নির্দিষ্ট করা খুব কঠিন হতে পারে। তাই সম্ভব হলে পুনরুদ্ধার এবং কষ্টসাধ্য পরীক্ষার প্রয়োজন।

বিবিসি’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয় তদন্তে নেতৃত্ব দেবে কোন সংস্থা। কারণ, সাবমারসিবল দুর্ঘটনার জন্য এমন কোনও প্রটোকল নেই।

অ্যাডমিরাল মাউজার বলেছেন, এই উদ্ধার অভিযান খুব জটিল ছিল। কারণ, দুর্ঘটনাটি মহাসাগরের প্রত্যন্ত অংশে ঘটেছে এবং বিভিন্ন দেশের নাগরিক যুক্ত ছিলেন।

বিবিসি লিখেছে, এখন পর্যন্ত অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছে মার্কিন কোস্টগার্ড। ফলে তদন্তেও সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ