শনিবার ১৮ মে ২০২৪ ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ডুবে যাওয়ার হুমকিতে আলবেনিয়ার উপকূল
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৩, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যে অন্যতম হলো হিমবাহ গলে যাওয়া, সমুদ্র স্তর বৃদ্ধি পাওয়া ও ভূমিক্ষয়। এগুলোর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন নদী শুধু নয়, বিভিন্ন দেশের সমুদ্র উপকূল অঞ্চলও সঙ্কুচিত হচ্ছে৷ আর দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ আলবেনিয়ার উপকূল অঞ্চলের মানুষ কয়েক দশকের মধ্যে নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন৷

২০১৭ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, আলবেনিয়া উপকূলের ৪২৭ কিলোমিটারের (২৬৫ মাইল) মধ্যে ১৫৪ কিলোমিটার এলাকা ভূমিক্ষয়ের শিকার। কিছু কিছু অঞ্চলে প্রতি বছর ২০ মিটারেরও বেশি জায়গা সমুদ্রে বিলীন হচ্ছে।

আলবেনিয়ার উত্তরাঞ্চলের লেগুন বা উপহ্রদগুলো যেন স্বর্গরাজ্য। ডেমুশ জেসইয়া প্রায় চার দশক ধরে এই এলাকায় জেলে হিসেবে কাজ করছেন। তার মতে, বেশ কয়েক বছর ধরে হৃদগুলোতে সাধারণ মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, যখন থেকে লেগুনে কাঁকড়া প্রবেশ করা শুরু করেছে, তখন থেকে সাধারণ মাছ ও ইলের সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। আগে এই লেগুনে অনেক জাতের মাছ পাওয়া যেতো। বছরে কয়েক হাজার কেজি মাছ ধরতে পারতাম আমরা।

অ্যাড্রিয়াটিক সাগর থেকে এই উপহ্রদের মাঝে শুধু চিকন একফালি জমি রয়েছে। সমুদ্র স্তরের উচ্চতা বেড়ে চলায় ব্লু ক্র্যাব জাতের কাঁকড়া লেগুনে প্রবেশ করতে পারছে। জীববিজ্ঞানী ও আঞ্চলিক পরিবেশ সংরক্ষণকারী ইয়াক গিনিও মনে করেন, কাঁকড়া লেগুনের প্রাকৃতিক মৎসভাণ্ডারের উপর চাপ সৃষ্টি করছে।

এই জীববিজ্ঞানীর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই একফালি এই জমি সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে। গিনি বলেন, সমুদ্রে ঝড় বাড়ছে, ভূমিক্ষয় হচ্ছে, তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে। এমনকি লেগুনে এখন প্রায়ই বন্যা হচ্ছে।

ইয়াক গিনির মতে, রাষ্ট্র হস্তক্ষেপ না করলে সমুদ্র শুধু এই সব উপহ্রদ গ্রাস করে নেবে না, আলবেনিয়ার উপকূলকেও পানির নিচে ডুবিয়ে দেবে। দেশটির উপকূল অঞ্চলের আনুমানিক এক তৃতীয়াংশ এরই মধ্যে ডুবে গেছে।

প্রায় চার দশক আগে কমিউনিস্ট জমানায় লেগুন অঞ্চলে একাধকি বাংকার তৈরি করা হয়েছিল। সে সময় সেটি সমুদ্র থেকে প্রায় ৪০ মিটার দূরে ছিল। এমন সেসব বাংকারের অনেকগুলোই পানির নিচে চলে গেছে। খুব দ্রুত আরও কয়েকটিকে গ্রাস করে নেবে সমুদ্র।

সমুদ্রের এমন আচরণে সঙ্কুচিত হয়ে পড়া সৈকতে পর্যটকদের জন্য বরাদ্দ জায়গার পরিমাণও কমতে শুরু করেছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, গত বছর সমুদ্র তীরে আরও অনেক সারিতে ছাতা ফুটিয়ে রাখা হতো। এ বছর একটি সারি কম করতে হয়েছে। কে জানে, পরের বছর কী হবে! হয়তো আরও একটি সারি উধাও হয়ে যাবে।

ফাটিয়োন নোকা নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমার বাবা নব্বই দশকের শেষে যে রেস্তোরাঁ গড়ে তুলেছিলেন, সেটিও সমুদ্রের গ্রাসে হারিয়ে যাওয়া আশঙ্কা রয়েছে। আগে গোটা এলাকা সবুজ ছিল, অনেকটা অ্যামাজনের মতো লাগতো। আর এখন মনে হয় অর্ধেকটাই পানির নিচে চলে গেছে।

ভূমিক্ষয় বন্ধ করতে তিনি আলবেনীয় সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। দেশটির পরিবেশ ও পর্যটন মন্ত্রী ক্লোদানা মারিকা বলেন, আমরা রূপায়নের জন্য সংগ্রাম করছি, কিন্তু আমাদের যথেষ্ট আর্থিক সক্ষমতা নেই।

তিনি বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় বাজেটের এক শতাংশেরও কম পরিবেশ রক্ষায় বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এ খাতে আমাদের আরও ৩০ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করা উচিত। কিন্তু দরিদ্র এই দেশের হাতে সেই পরিমাণ অর্থ নেই।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ