সোমবার ১৭ জুন ২০২৪ ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তরুণীর ব্ল্যাকমেইলিং ইয়াবার টাকা জোগাতে
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জুন ২০২৩, ০৭:২৫ অপরাহ্ণ

পড়াশোনা করেছেন উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত। নিজেকে পরিচয় দেন ড্যান্সার হিসেবে। এই সুযোগে তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। তারপর কৌশলে তাদের মোবাইল থেকে হাতিয়ে নেন ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও। পরে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আদায় করতেন অর্থ। এভাবে অন্তত ২০ থেকে ২২ জনকে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করেছেন এক তরুণী। সমাজ ও লোকলজ্জার ভয়ে ভুক্তভোগীরা তাকে অর্থও দিয়ে দিতেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

মঙ্গলবার (২০ জুন) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুর এলাকার ভুঁইগর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি বাসা থেকে অনামিকা খান ওরফে অনু (২৪) নামের ওই তরুণীকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। গত সোমবার (১৯ জুন) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী এক তরুণীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার বিষয়টি অনুসন্ধানের পর প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে পুলিশ অনুকে আটক করে। পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী ওই তরুণী ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার পল্টন থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন।

ভুক্তভোগী ওই তরুণী জানান, তিনি একজন গায়িকা। শোবিজ মিডিয়ায় কাজ করতে গিয়ে অনুর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অনু নিজেকে একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে পরিচয় দেন। পরিচয়ের সূত্র ধরে বন্ধুত্ব হলে ভুক্তভোগীর শান্তিনগর এলাকার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন অনু। একপর্যায়ে অনু ভুক্তভোগীকে ধর্মের বোন বানান। তার বাসায় যাতায়াত ও অবস্থানের সময় কৌশলে অনু বিবাহিত ভুক্তভোগীর মোবাইল থেকে তার সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে তোলা কিছু ছবি ও ভিডিও নিজের মোবাইলে নিয়ে নেয়। এরপর অপরিচিত একটি নম্বর থেকে অনু তাকে ফোন করে গোপন ভিডিও স্বামীর কাছে পাঠানো বা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হলে অনু ছবি ও ভিডিওগুলো তার কয়েকজন বন্ধুর মোবাইলে পাঠান।

ভুক্তভোগী জানান, তিনি উপায়ান্তর না দেখে এ ঘটনায় সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। পরে সাইবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তারপরও তিনি বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত অবস্থায় দিন পার করছেন। তিনি ভাবতেও পারেননি তারই পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ কেউ এমন কাজ করতে পারে।

সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতার তরুণী অনু মাদকাসক্ত। তিনি নিয়মিত ইয়াবা সেবন করেন। মাদকাসক্ত হয়ে পুলিশ পরিদর্শক বাবা ও মাকে খুন করা আলোচিত ঐশী ছিলো তার বন্ধু। তিনি মূলত বিভিন্ন ড্যান্স ক্লাবে ড্যান্সার হিসেবে কিছুদিন কাজ করেছেন। সেই পরিচয়ে বিভিন্ন তরুণ-তরুণীর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। তারপর তাদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় শুরু করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের উপপরিদর্শক ইব্রাহীম আলী জানান, অনুকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন। তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এসব মোবাইল ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।

ইব্রাহীন আলী জানান, ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের এই চক্রে অনু ছাড়াও তার আরও কয়েজন সহযোগী রয়েছে। তারা পরিকল্পনা করে একেকজনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে। তারপর ব্ল্যাকমেইল করে। তার অন্য সহযোগীদের বিষয়ে খোঁজখবর করা হচ্ছে।

পুলিশের সাইবার বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা জানান, কখনোই নিজের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কোনও ছবি বা ভিডিও মোবাইলে সংরক্ষণ করা উচিত নয়। কারণ যেকোনও সময় মোবাইলটি হারিয়ে গেলে বা মেরামতের জন্য কোনও দোকানদারের কাছে দেওয়া হলে সেসব ছবি বা ভিডিও বেহাত হতে পারে। এ জন্য সবাই সচেতন থাকলে যেকোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখা যায়।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ