শুক্রবার ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারী সব পারে, যদি সে উদ্যোগী হয়

নুসরাত বারী আশা, একজন সাহসী নারী ও সফল উদ্যোক্তা। তৃতীয় প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে দুই দশক ধরে দেখাশোনা করছেন পারিবারিক ব্যবসা। পাশাপাশি ২০১৯ সালে মমসন পোর্টফোলিও প্রতিষ্ঠা করেন। একই সঙ্গে সফলভাবে পরিচালনা করছেন টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, খাদ্য, পশুখাদ্য, লজিস্টিকস, সিঅ্যান্ডএফ, ট্রেডিং এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসা। প্রতিষ্ঠা করেছেন আশার আলো ট্রাস্ট। কাজ করছেন মহিলা উদ্যোক্তা সমিতির পরিচালক হিসেবে। এবারের বিজিএমইএ নির্বাচনে তিনি পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সফল এই নারী উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা হয়
ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
একসময় ব্যবসা-বাণিজ্য থমকে গিয়েছিল। দেশের রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশ নেতৃত্ব দেওয়া পোশাকশিল্পের ক্রয়াদেশ বন্ধ ছিল করোনাকালে। ওই সংকট কাটিয়ে এখন ভালোর দিকে অর্থনীতি। বিশেষ করে নতুন নতুন বিনিয়োগ আসছে পোশাক খাতে। বৈশ্বিক অর্থনীতির সূচকে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ক্রেতারা পোশাক কেনা কমিয়েছে, অনেক দেশে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
নারী সব পারে যদি সে উদ্যোগী হয়। তবে নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে কয়েকটি বাধা রয়েছে, বিশেষ করে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার অভাব। উদ্যোক্তা হতে প্রশিক্ষণ দরকার, যেটা না হলে ব্যবসায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমাদের প্রজন্মের অনেকেই ব্যবসায় আসতে চাচ্ছেন না। অনেকেই দেশের বাইরে গিয়ে সেখানেই স্থায়ী হচ্ছেন। ফলে নারীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে আমরা উদ্যোগ নেবো। বিজিএমইএ’র নেতৃত্বে এলে অবশ্যই সেসব শিল্প উদ্যোক্তার সন্তানদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করবো।

অর্থায়ন ব্যবসার ক্ষেত্রে বড় বাধা। সরকার উদ্যোক্তাবান্ধব হওয়ায় সমস্যা লাঘব হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে আরও কাজ করতে হবে, নারীদের ঋণ পাওয়ার বিষয় আরও সহজ করতে হবে।

Ad

কারণ, আমাদের দেশে ব্যবসার পরিবেশ আছে। নতুন নতুন দেশের বাজার উন্মুক্ত হচ্ছে আমাদের জন্য। তাদেরকে এসব বিষয়ে জানানো হবে, ট্রেইনআপ করা হবে। দেশের জন্য তাদের কাজে লাগিয়ে তরুণ নেতৃত্ব আনা হবে, যেখানে গাইড করবে বিজিএমইএ।
অর্থায়ন ব্যবসার ক্ষেত্রে বড় বাধা। সরকার উদ্যোক্তাবান্ধব হওয়ায় সমস্যা লাঘব হয়েছে। সরকার কাজ করছে। ব্যাংকগুলোকে আরও কাজ করতে হবে, নারীদের ঋণ পাওয়ার বিষয় আরও সহজ করতে হবে। অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আছেন যাদের উদ্যোগ আছে, তবে টাকার সমস্যায় এগুতে পারেন না। এক্ষেত্রে ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা দরকার।

ব্যবসার জন্য খুবই জরুরি ওয়ান স্টপ সার্ভিস। উদ্যোক্তারা এর সুফল পাবেন। এক জায়গায় সব সেবা পাওয়া গেলে ব্যবসা অনেকটা সহজ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে গ্রাম পর্যায়ে প্রশিক্ষণসহ নানান উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। নারীদের কাজের সুযোগ রয়েছে, কিন্তু প্রশিক্ষণের অভাবে সেটা হচ্ছে না। সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। একজন উদ্যোক্তা তৈরি করা মানে শত শত বেকারের কর্মসংস্থান। এর সুফল পায় দেশ, দেশের অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী হয়।

তৃতীয় প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে দুই দশক ধরে পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনা করছি। টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, খাদ্য, পশুখাদ্য, লজিস্টিকস, সিঅ্যান্ডএফ, ট্রেডিং এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করছি। কাজ করছি মমসন পোর্টফোলিও প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে। আমার মতো অনেকেই এসেছেন, আসছেন। তবে পুরুষের তুলনায় যদিও তা কম। তৈরি পোশাকশিল্প মালিক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতৃত্বে এলে নারীদের উৎসাহ দেওয় হবে, ব্যবসার পরিবেশকে তুলে ধরা হবে।

বর্তমানে ফ্যাশনে যেভাবে পরিবর্তন এসেছে, বায়ারের মধ্যেও পরিবর্তন এসেছে। তবে ক্রেতা আগের মতোই রয়েছেন। এটা হয়েছে সময় বাঁচানোর জন্য। কারণ, ক্রেতারা তরুণ প্রজন্মের।

সরকার নারীবান্ধব অনেক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। অনেক সংগঠন নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কাজ করছে। আমাদের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাকশিল্প থেকে, যেখানে ৪০ লাখ নারী শ্রমিক অবদান রাখছেন।
নারী পারেন, নারী পারবেন। এ নিয়ে অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী ও অদম্য মনোবল থাকতে হবে। যে ধরনের উদ্যোক্তা হতে চান, সে বিষয়েও আপনার ধারণা থাকতে হবে। আমি নিজে সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে ব্যবসায় মনোযোগ দিচ্ছি। পণ্য নিয়ে বায়ারের সঙ্গে কথা বলতে হচ্ছে। আবার সংসারের প্রতিও দায়িত্বশীল নারী। মোট কথা ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস, মনোবল থাকলে যেকোনো কাজে সফলতা আসবে।
বর্তমানে ফ্যাশনে যেভাবে পরিবর্তন এসেছে, বায়ারের মধ্যেও পরিবর্তন এসেছে। তবে ক্রেতা আগের মতোই রয়েছেন। এটা হয়েছে সময় বাঁচানোর জন্য। ক্রেতারা তরুণ প্রজন্মের। তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে হবে। আবার বিজিএমইএ একটা উদাহরণ। যেখানে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করা হয় নির্বাচন ও নেতৃত্বে। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তরুণদের সঙ্গে নিয়ে আমরা এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে চাই, শিল্পের জন্য, অর্থনীতির জন্য নিজেদের উৎসর্গ করতে চাই। যেটা হবে দেশের অর্থনীতির স্বার্থে।