শনিবার ১৮ মে ২০২৪ ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পায়ে সালাম করে সালামী নেওয়া কি জায়েজ ?
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৩, ০২:২৬ অপরাহ্ণ

ঈদ এলেই আমাদের সমাজে পায়ে সালাম করে সালামী নেওয়ার ধুম পড়ে যায়। কিন্তু এই বিধান কতটুকু শরিয়তসম্মত? এই পা ছুঁয়ে সালামকে অনেকে বলেন কদমবুসি। এখন বাঙালি মুসলিমরা এই কদমবুসির নাম দিয়েছে পায়ে ধরে সালাম করা। অনেকে বলে থাকেন এই পা ছুঁয়ে সালাম করা হারাম। চলুন দেখে আসি এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ইসলামি শরিয়ত কি বলে…

ইসলামী শরিয়তে কদমবুসি করা শিরক। কিছু মানুষ বলে কদমবুসি করা কীভাবে শিরক হয়; আমরা তো সিজদা করি না শুধু মাথা নুয়ে সালাম করি! অথচ মাথা নুয়ানো মানেই সিজদাহ করা। কিছু মানুষ আছে যারা বলে আমরা কদমবুসি করার সময় চোখ উপরে তুলি তাই আমাদের সিজদাহ হয় না অতএব, এই রকম চোখ উপরে তুলে কদমবুসি করা জায়েজ!!

কি অদ্ভুত যুক্তি! এ যুক্তি মেনে নিলেও তবুও কদমবুসি করা হারাম। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি অন্য কওমের সাদৃশ্য অবলম্ব করবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।  সূত্র- মিশকাত শরীফ হাদীস নং-৪৩৪৭

মুহাদ্দিসগণ এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, যেহেতু কদমবুসি করা বিধর্মীদের রীতি। অতএব, কদমবুসি করা হারাম।

ইসলামে পা ছুঁয়ে সালাম করার কোনো বিধান নেই। এটি একেবারেই ইসলাম পরিপন্থী কাজ। কাফির মুশরিকদের সাদৃশ্যতায় উদ্ভাবিত একটি বিদাত। আর বিদাত এর ব্যাপারে হাদীস শরিফে এসেছে- হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘যে কেউ কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্যতা ধারণ করলো, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত’।

এছাড়া আনাস (রা.) বলেন, জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে রাসূল (সা.) আমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি যখন তার কোনো ভাই বা বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, তখন সে কি মাথা ঝুঁকাবে বা তাকে জড়িয়ে ধরবে বা চুমু খাবে? রাসূল (সা.) বললেন, না! ওই ব্যক্তি আবার প্রশ্ন করেন, তাহলে কি কেবল হাত ধরবে ও মুসাফাহা করবে? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হ্যাঁ’

সূত্র:- তিরমিযী, মিশকাত হা/৪৬৮০ ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়, মুসাফাহা ও মু‘আনাক্বা অনুচ্ছেদ-৩)

সামাজিকতার দোহাই দিয়ে অনেক মুসলিম বড় কাউকে সালাম দেওয়া সময় ও মুসাফাহা করার সময় কিছুটা ঝুঁকে যান। অথবা পা ছুয়ে সালাম করেন। অথচ সালাম করার রীতি রাসূল (সা.) সাড়ে ১৪শ’ বছর আগেই শিক্ষা দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে কারো সম্মানার্থে মাথা বা ঘাড় ঝুঁকানোর অনুমতি ইসলাম ধর্মে নেই।

জামে তিরমিযী শরীফের ২৭২৮ নং হাদীস এবং সুনানে ইবনে মাজাহর ৩৭০২ নং হাদীসে এসেছে-  রাসূল (সা.)-কে একবার জিজ্ঞাসা করা হলো, কোনো ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে কি মুসাফাহা করবো’? এ প্রশ্নের উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, হ্যাঁ, মুসাফাহা কর। এরপর জিজ্ঞাসা করা হলো, তার সামনে কি ঝুঁকতে পারি? তিনি (সা.) ইরশাদ করলেন, না, ঝুঁকা যাবে না।

প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন  ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) বলেছিলেন, রাসূলের (ﷺ) স্ত্রী আয়েশা (রা.) কখনো রাসূলকে পায়ে ধরে সালাম করেননি। রাসূলের (ﷺ) মেয়ে ফাতেমা (রা.) কখনও নিজ বাবাকে পায়ে ধরে সালাম করেননি। রাসূলের (ﷺ) সাহাবীগণ কখনও রাসূলের পায়ে ধরে সালাম করেননি।

পায়ে ধরে সালাম কোনো সালাম নয়, এটি একটি সমাজ কর্তৃক চাপিয়ে দেয়া নোংরা প্রথা; এক নেকীও সওয়াব তো হয়ই না বরং শিরকের সমূহ সম্ভাবনা থাকে। ইসলাম সালামের সুন্দর পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেঃ ‘আসসালামু আলাইকুম’!

এসব হাদীস ও ঘটনা থেকে প্রমাণিত যে, সকল মুসলিমের সম্মান সমান। তাই কারো পায়ে সালাম করা কিংবা মুসাফাহার সময় সামনের দিকে ঝোঁকার কোনো বিধান নেই। আল্লাহপাক আমাদেরকে বিধি মোতাবেক জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুক। আ…মি….ন।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ