শনিবার ০২ মার্চ ২০২৪ ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ভবঘুরে ও নেশাগ্রস্তদের দিয়ে নাশকতার পরিকল্পনা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

বিএনপি’র চলমান হরতাল-অবরোধকে কেন্দ্র করে পরিবহনে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর, এমনকি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা ও নাশকতার অপতৎপরতায় ভবঘুরে ও নেশাগ্রস্তদের ব্যবহার করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এরইমধ্যে সরাসরি নাশকতা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে যুবদল-ছাত্রদল কিংবা বিএনপি নেতাকর্মীদের অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশের তৎপরতায় ইদানীং সরাসরি জড়িত হতে না পারায় বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ভবঘুরে কিংবা নেশাগ্রস্তদের দিয়ে হামলা কিংবা নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছে। এমনকি বিভিন্ন জায়গায় ভবঘুরে এবং নেশাগ্রস্তদের দিয়ে হামলার ঘটনাও ঘটিয়েছে তারা। এমন দাবি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একাধিক সূত্র।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএনপির হরতাল-অবরোধে জ্বালাও-পোড়াও কিংবা নাশকতার ঘটনার পেছনে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এমনকি বিএনপি এবং তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বোমা বানানোর সঙ্গে জড়িতদের রাজধানীতে এনে বোমা তৈরির কাজও চালিয়ে আসছিল। এছাড়া বিভিন্ন পরিবহনে অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকেও বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অবরোধকে কেন্দ্র করে নাশকতা-ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনার তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে এসেছে। কারা কোথায় কোন জায়গায় বসে নাশকতার পরিকল্পনা করছে, কী ধরনের পরিকল্পনা করছে, সেসব তথ্যও গোয়েন্দাদের কাছে চলে আসছে। ফলে বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।

সূত্র বলছে, অবরোধকে কেন্দ্র করে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে। এছাড়া নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিউটিরত অবস্থায় আলাদাভাবে না থেকে একসঙ্গে থাকার কথা বলা হয়েছে। কোনও দুষ্কৃতকারী যাতে পরিবহন বা স্থাপনাগুলোতে অগ্নিসংযোগ বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটাতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার কথা বলা হয়েছে। এরই মধ্যে গণপরিবহনে ভাঙচুর এবং আগুনের ঘটনা ঠেকাতে ডিএমপি’র পক্ষ থেকে যাত্রীবেশে আগুন দেওয়া ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গাড়ির পেছনের গ্লাসগুলো বন্ধ রেখে চলাচলের জন্য পরিবহন সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। গাড়ির পেছনের দিকের সিটে বসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা বিভিন্ন সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পুলিশ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন গণপরিবহনের দিকে নজর রাখছে।

গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং যুবদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের নাশকতা ও হামলার পরিকল্পনার জন্য বিভিন্ন জায়গায় বৈঠক করছে। সেসব বৈঠকে কোথায় কাদের কী ধরনের কাজ থাকবে সেসব বিষয় সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় ও রাত ৮টার আগে বাসে আগুন দেওয়ার বিষয়ে নেতাকর্মীদের বৈঠকে আলোচনার বিষয়গুলো সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে গোয়েন্দারা। কারা লাঠি হাতে ভাঙচুরে অংশ নেবে, কারা বাসে আগুন দেবে, কারা মোটরসাইকেল টহল দিয়ে অবস্থান পর্যবেক্ষণ করবে, সেসব দায়িত্ব এসব বৈঠক থেকে ভাগ করে দেওয়া হয়। এরইমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় নাশকতাকারীরা কিছুটা ধীর পদক্ষেপে এগোচ্ছে। অনেকেই এখন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে কিংবা সরাসরি অবস্থান করে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ত করতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছে। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে নিজেরা সরাসরি সম্পৃক্ত না হয়ে ভবঘুরে কিংবা নেশাগ্রস্তদের সহায়তা নিয়ে নাশকতা কিংবা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানোর জন্য অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। যারা নাশকতা ঘটাতে পারবে তারা ভালো পদ-পদবী পাবে বলেও ওই বৈঠকগুলোতে আলোচনা হয়।

বিশেষ করে সড়ক কিংবা অলিগলির আশপাশে দাঁড় করিয়ে রাখা গাড়ি, বাস বা বিভিন্ন ধরনের পরিবহনের বিষয়েও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে ডিএমপি। কোথাও কোনও পরিবহন দাঁড়ানো অবস্থায় থাকলে সেগুলোকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারপরও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে।

ডিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ  বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা কোথায় অবস্থান করে নাশকতার পরিকল্পনা করছে­, এরকম অনেক তথ্যই আমরা পাচ্ছি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া আরও যাদের তথ্য আমরা পেয়েছি তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দারা কাজ করছে।

 







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ