মঙ্গলবার ০৫ মার্চ ২০২৪ ২১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ভোটে যাবার সিদ্ধান্ত নিতে নেতাদের সঙ্গে জিএম কাদেরের বৈঠক
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:৫৩ অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে দোলাচালের মধ্যে কো-চেয়ারম্যানদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদের। ধাপে ধাপে চলা এই বৈঠকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের মতামত নিচ্ছেন জাপা চেয়ারম্যান।

জানা গেছে, নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি দলটি। এখন চলছে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা। ক্ষমতাসীনদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী আসন নিশ্চিত না হলে যে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা গেছে, রোববার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন হলেও জাপার শর্ত এখনো পূরণ করেনি আওয়ামী লীগ। গতকাল শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত বৈঠকেও আসন নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় পার্টিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। আসন সংখ্যার পাশাপাশি আসন নম্বর (এলাকা) নিয়েও রয়েছে জটিলতা। তবে জাপা মহাসচিব জানিয়েছেন, ভোটে যাওয়া নিয়ে সংশয় দূর হবে আজ রোববার বিকেলে।

রোববার (১৭ ডিসেম্বর) বেলা সোয়া ১১টায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বনানী কার্যালয়ে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ও সালমা ইসলাম উপস্থিত হন। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

সাংবাদিকদের চুন্নু বলেন, ‘নির্বাচন করার জন্য আমরা আসছি। পরিবেশ পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আজ ও আগামীকাল এই দুইদিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। আজ মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন, আগামীকাল প্রতীক বরাদ্দ। ভোট আমরা করবো, নাকি করবো না; আজকের মধ্যে পরিষ্কার হওয়া দরকার। চেয়ারম্যানের সঙ্গে সিনিয়র নেতাদের কথা হয়েছে। আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে বিকেলে আপনাদের জানাবো।’

‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার জন্য বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় আছে’- ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানান আলোচনা হচ্ছে। ৪টা-৫ টা এমন সময়ের কিছু নেই। এখন যেটা হচ্ছে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের মতামত নিচ্ছি। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছি, সেজন্য আরও সময় নিচ্ছি। এটা সরকারের সঙ্গে (বৈঠক) না। নিজেদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছি।’

আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই। আমরা আসন চেয়েছি কি চাইনি এই ধরনের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা যাই করি তা আমাদের চেয়ারম্যানের নির্দেশে ও নেতৃত্বে। আমাদের কিছু ভোটের কৌশল আছে, সেটি এখনই বলতে চাই না।’

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের কাছে অন্তত ৩১টি আসন চেয়েছে জাতীয় পার্টি। তবে জাপা প্রার্থীদের সহজ জয়লাভের জন্য ক্ষমতাসীন দল ২৬টির বেশি আসন থেকে তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করবে না বলেও জানা গেছে।

তবে, ২৬০টিরও বেশি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতারা জাপার জন্য পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। কারণ আওয়ামী লীগ যদি একটি আসনে তার প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেয়, তবুও জাপার টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ব্যক্তিকে স্বতন্ত্র আওয়ামী লীগের নেতার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। আর আওয়ামী লীগ যে ২৬টি আসনে জাপাকে ‘দিতে চায়’ সেখানেও এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ