মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০২৪ ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিগগিরই আসছে যানবাহনের গতি নির্ধারণ নীতিমালা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৪ মে ২০২৩, ০১:১৮ পূর্বাহ্ণ

খুব শিগগিরই যানবাহনের গতি নির্ধারণের নীতিমালা আসছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী।

বুধবার (৩ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সড়ক ও যানবাহনের গতি নির্ধারণ, ব্যবস্থাপনা, মনিটরিং এবং বাস্তবায়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বেসরকারি সংস্থা নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বৈঠকটি আয়োজন করে।

বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন সচিব বলেন, ‘গাড়ির গতি কমানো গেলে দুর্ঘটনা কমে যাবে। এজন্য আমরা একটা গাইডলাইন তৈরির কাজ করছি। আপনারা দ্রুতই একটি গতি নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা পাবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি প্রস্তাব করেছিলাম যেখানে শহরের মধ্যে যানবাহনের গতিসীমা ৩০ কি.মি. থাকবে। এটা করার পরদিনই আন্দোলন শুরু হয়ে গিয়েছিল। আমরা হাইওয়েতে গতিসীমা ৮০ কি.মি. করেছিলাম। কেউ একজন ফোন করে বললো, এই গতিতে গাড়ি চালানো যাবে কিনা? ওটা ১০০ করে দিন। এই হচ্ছে আমাদের অবস্থা। কিন্তু আমি এর পক্ষে না। কারণ গতি বাড়লে দুর্ঘটনা বাড়বে।’

দুর্ঘটনার তথ্যের বিভ্রান্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের তথ্যের বিভ্রান্তি হচ্ছে। সবাইকে সঠিক তথ্য দেওয়ার অনুরোধ করছি। ভুল তথ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যাবে না। প্রতিদিন দুপুর ১২টায় আমরা দুর্ঘটনার তথ্য বিআরটিএ’র ওয়েবসাইটে প্রকাশ করছি।’

আইনের ব্যবহার নিয়ে আমিন উল্লাহ বলেন, ‘হাইওয়েতে প্রতিদিন তিন হাজার মামলা হচ্ছে, মাসে লাখের ওপরে। আইনের প্রয়োগ হচ্ছে, কিন্তু কোনও সুফল নেই। এক্ষেত্রে চালক, পথচারী ও সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে নিসচার চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ভৌগোলিক অবস্থা বুঝে আমাদের গতিসীমা নির্ধারণ করতে হবে। আমাদের কোনও এক সড়কে গতিসীমা দিয়ে রাখলাম ৮০ কি.মি. কিন্তু বন্যার সময় সেখানে ওই গতিতে চলা সম্ভব না। সেক্ষেত্রে সেখানে ভেরিয়েবল সাইনবোর্ড থাকা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, হেলমেটের ব্যবহার, অটোমেটিক টোলের ব্যবস্থা করা, সিটবেল্ট বাঁধা নিশ্চিত করতে হবে। এগুলো কেন আমরা করতে পারছি না? বিষয়গুলো ঠিক করতে হবে। স্কুলপর্যায় থেকে আমাদের সচেতনতা তৈরি করতে হবে। আর কোনও গতিসীমা নির্ধারণ বা নিয়মনীতি করলে তা যেন চালকরা জানতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

বৈঠকে ব্র্যাকের রোড সেফটি প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর এম খালেদ মাহমুদ বলেন, গাড়ির অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। গতিসীমিত বা নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য সেভাবে পরিকল্পনা করে সড়ক তৈরি করতে হবে। শুধু দুর্ঘটনার জন্য চালককে দোষারোপ করলে হবে না। পথচারী থেকে চালক—সবাই যেন বুঝতে পারে এমন রোড সাইন ব্যবহার করতে হবে।

নিসচা উপদেষ্টা ও নাট্যব্যক্তিত্ব ম. হামিদ বলেন, পথচারী হিসাবে সবচেয়ে অসহায় বোধ করি এখন। সেদিন গুলশানের ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময় স্লাব ভেঙে নিচে পড়ে আমার এক বন্ধুর হাঁটু ভেঙে যায়। দায়িত্বে অবহেলার জন্য ওই কর্তৃপক্ষকে আইনের আওতায় আনা হয় না। কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত। এ ছাড়া গাড়ি চিহ্নিত করতে বড় নাম্বার প্লেট স্পষ্ট করে বসাতে হবে এবং রংয়ের কম্বিনেশন থাকতে হবে যেন দূর থেকেও দেখে বুঝা যায়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এডিসি সোহেল রানা বলেন, আইন প্রয়োগ করাটাই আমাদের কাছে মুখ্য উদ্দেশ্য। কিন্তু ঢাকা শহরের জ্যাম কমাতেই ৯৯ শতাংশ সময় ব্যয় করতে হয়। যার ফলে আমরা অন্য বিষয়গুলোতে বেশি সময় দিতে পারি না। আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে সড়ক কম, গাড়ি বেশি।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তানভীর সিদ্দিকী বলেছেন, বিভিন্ন সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন দুর্ঘটনার তথ্য দেয়। আসলে আমাদের কাছে যথাযথ ডাটা থাকে না। ফলে আমরা কাজ করতে পারি না। দুর্ঘটনার যথাযথ ডাটা তৈরি করা উচিত।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু বলেন, কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন প্রশাসন ও সড়ক নিরাপত্তা অনুষ্ঠানের পরিচালক আহমেদ নাজমুল হোসাইন, হাইওয়ে পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জী, বিআরটিএ’র ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ, বিআরটিসি’র জেনারেল ম্যানেজার (হিসাব) আমজাদ হোসেন, নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন প্রমুখ।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ