বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪ ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ : মেনন
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদী ও তাদের দোসর বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে নির্বাচন সম্পন্ন করা গেলেও সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে নিজের মানুষের বিরুদ্ধেই আগে ব্যবস্থা নিতে হবে।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ব্যর্থ করে সুষ্ঠুভাবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হলেও নির্বাচন সম্পর্কে জনমানুষের যে অনাস্থাবোধ তা দূর করা যায়নি। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামানত এক লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান তিনি।

রাশেদ খান মেনন বলেন, এবারই সর্বপ্রথম এত অধিক সংখ্যক স্বতন্ত্র সদস্য সংসদে এসেছেন। ফলে সংসদে কিছু নতুন রীতির সৃষ্টি হবে। কিন্তু সেটা এমন না হয় যাতে সংসদীয় রীতির সৌন্দর্য নষ্ট হয়। রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা। নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকে উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। দলের ক্ষেত্রে এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপজেলা নির্বাচনকেও উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এর প্রতিক্রিয়ায় নতুন কোন রাজনৈতিক ব্যবস্থা জন্ম নেবে কি না সেটা দেখার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সে ধরনের নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার কথা বলছেন। এই ব্যবস্থায় ধনীরাই থাকবে, গরিব-মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষ নয়। নির্বাচন কমিশন সেই লক্ষ্যে উপজেলা চেয়ারম্যানের জামানত এক লক্ষ ও ভাইস-চেয়ারম্যানের জামানত ৭০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছেন। যা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের নামে ভিসানীতি, শ্রমিক অধিকার নীতি প্রয়োগের হুমকি দিয়ে আসছিল। এই পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তখনই বলেছিলাম অবাধ নির্বাচন নয়, সরকার পরিবর্তনই তাদের লক্ষ্য। এদেশে তাদের স্বাভাবিক সহযোগী ছিল বিএনপি-জামায়াত। তারা দেশের অভ্যন্তরে সরকার পতনের আন্দোলনের নামে সব ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করার প্রয়াস নিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও জনগণের প্রতিরোধ তাদের সকল ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দিয়েছিল।

এখন ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা প্রধান চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে রাশেদ খান মেনন বলেন, এটা একইভাবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনের ১১টি প্রধান প্রতিশ্রুতির প্রথম প্রতিশ্রুতি। বাজার সিন্ডিকেট না ভাঙার কোনো কারণ নেই। কারণ কারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে সরকারের তা জানা। অন্য দলকে এ ব্যাপারে দোষ দিয়ে লাভ নেই। নিজের মানুষের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা এ ব্যাপারে গণ-বণ্টন ব্যবস্থার পূর্ণ রেশনিং চালু করার কথা বলেছিলাম। সরকারকে বিষয়টা আরেকবার বিবেচনার জন্য বললাম।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ