শনিবার ০২ মার্চ ২০২৪ ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সরকার সংঘাতের পথ পরিহার না করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ: মঈন খান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:৫১ অপরাহ্ণ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেছেন, ‘হয়তো ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্ষমতায় থাকবেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে-আগামী প্রজন্মের কাছে কোন বাংলাদেশ রেখে যাচ্ছেন? তাই সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি ব্যবহার নিশ্চিত করি। তা না হলে বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ খারাপ পরিণতি অপেক্ষা করছে।’

বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘মহান মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অবদান ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি)।

এসময় মঈন খান বলেন, ‘এ সরকার মনে করছে তারা উন্নয়নের গল্প শুনিয়ে টিকে থাকবে। কিন্তু সেটি না। স্বাধীনতার বিজয়ের প্রাক্কালে দেশের মানুষ ভেবেছিল বাংলাদেশ হবে একটি স্বাধীন দেশ। কিন্তু তার ঠিক আগ মুহূর্তে রাজাকার আলবদররা এক হয়ে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশকে মেধাশূন্য করে ফেলা। সেজন্যই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে। যা বিশ্বে বিরল ঘটনা। আমরা তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে বাস করছি।’

তিনি বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধারা চেয়েছিলেন গণতান্ত্রিক স্বাধীন বাংলাদেশ। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র মৃত। এখানে নতুনভাবে একদলীয় বাকশাল কায়েম করা হয়েছে।’

মঈন খান বলেন, ‘আজ আমরা কোন বাংলাদেশে আছি? যেখানে ভিন্নমতের কথা বলার সুযোগ নেই। দেশের মানুষ চায় তারা ৫ বছরে একবার ভোট দিতে। তারা নিজেরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে চায়। কিন্তু সেই ভোটাধিকার গেলো কোথায়?’

মঈন খান আরও বলেন, ‘অনেকেই বলেন নতুনভাবে বাংলাদেশে কেনো নিষেধাজ্ঞা আসেনি। এজন্য বিএনপি নাকি হতাশ? তাহলে কি আরও নিষেধাজ্ঞা এলে আওয়ামী লীগ দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিত? কেনো নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে?’

মঈন খান বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছি। এরই মধ্যে বাংলাদেশের জনগণ এ সরকারকে প্রত্যাখান করেছে।’

তিনি বলেন, ‘৭ জানুয়ারি নির্বাচন হবে না। আওয়ামী লীগ নির্বাচন করে ফেলেছে। ৭ জানুয়ারি শুধু ফলাফল ঘোষণা করবে। তফসিল নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। আমরা সত্যের পথে আছি। জনগণের সঙ্গে আছি। আমাদের বিজয় হবেই ইনশা আল্লাহ।’

বিএসপিপির সাবেক আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কাদের গণির সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএসপিপির আহ্বায়ক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল হাই শিকদার, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের অধ্যাপক লুৎফর রহমান, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) অধ্যাপক হারুন আল রশিদ প্রমুখ।

এসময় বিভিন্ন পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী মো. মোস্তাফা-ই জামান সেলিম, প্রকৌশলী এ কে এম আসাদুজ্জামান চুন্নু, প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, প্রকৌশলী কামরুল হাসান খান সাইফুল, প্রকৌশলী মুসলিম উদ্দিন, প্রকৌশলী এম এইচ পাটোয়ারী মিলন, অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস, জহিরুল ইসলাম শাকিল, মো. এমদাদুল হক দুলু, অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া প্রমুখ।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ