শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ৮ আশ্বিন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

হায়েনার ভয় এখনও তাড়া করছে সাইফকে
প্রকাশ: শনিবার, ০৮ জুলাই ২০২৩, ০৪:০২ অপরাহ্ণ

চিড়িয়াখানায় ঘুরতে গিয়ে হঠাৎ করেই বাবা-মায়ের কাছ থেকে সরে যায় দুই বছরের শিশু সাইফ। চলে যায় হায়েনার খাঁচার একদম কাছে। নাগালে পেলে শিশুটির হাত কামড়ে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে হায়েনা। এই ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে যায় পুরো পরিবার। যন্ত্রণায় কাতর শিশুটিকে প্রায় দুই সপ্তাহে হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে। কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায় সে। তবে শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছে সাইফের। হায়েনার সেই ভয়ংকর হামলার কথা মনে করে শিশুটি বারবার কেঁদে ওঠে। শিশুটির সুস্থতা ও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে ভুগছে তার পরিবার।

গত ৮ জুন রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় মা-বাবা ও আরও কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে ঘুরতে যায় সাইফ। মায়ের কোল থেকে নেমে হঠাৎ দৌড়ে হায়েনার খাঁচার কাছে চলে যায় সে। এ সময় খাঁচায় বন্দি হায়েনা কামড়ে নিয়ে যায় শিশু সাইফের ডান হাতের কবজির অংশ। মুহূর্তেই আনন্দ পরিণত হয় বিষাদে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য শিশু সাইফকে চিড়িয়াখানার লোকজন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে টানা ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে পরিবারের সঙ্গে আশুলিয়ার ভাড়া বাসায় যায় সাইফ।

শিশুটি এখন কেমন আছে জানতে চাইলে তার বাবা মো. সুমন মিয়া বলেন, আগের চেয়ে সে এখন কিছুটা সুস্থ। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর তার কিছু মানসিক সমস্যা হচ্ছে। কয়েক দিন কান্নাকাটি করেছে প্রচুর। হঠাৎ হঠাৎ কান্না করে ওঠে। ওই সময়ের (হায়েনার হামলা) ভয়টা এখনও তাকে তাড়া করে ফেরে। বিষয়টি আমরা বুঝতে পেরে তাকে মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যাই। বর্তমানে আগের চেয়ে ভালো। তবে আগের মতো এখন আর কথা বলছে না সাইফ।

তিনি বলেন, প্রায় ১৫ দিন সাইফকে নিয়ে হাসপাতালে ছিলাম। বাসায় ফেরার পর গত বুধবার আবার তার হাতের ব্যান্ডেজ ড্রেসিংয়ের জন্য জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল নেওয়া হয়েছিল। সেখানে আমাদের সঙ্গে চিড়িয়াখানার লোকজনও ছিলেন। তারা শিশুটির চিকিৎসার জন্য যাবতীয় সাহায্য করছে। এখন তারা সাহায্য করছে ঠিকই। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বস্ত করেছেন আমার ছেলের পাশে থাকবে। ভবিষ্যতে আমার ছেলেকে কি তারা দেখবে? যদি না দেখে তাহলে তার কী উপায় হবে? দুশ্চিন্তা তো হচ্ছেই।

সাইফের বাবা সুমন গার্মেন্টে কাজ করেন। সংসারের হাল ধরতে সুমনের স্ত্রীও গার্মেন্টে চাকরি শুরুর কথা ছিল। চাকরিও হয়েছিল। কিন্তু সেটা আর তার করা হলো না। একমাত্র সন্তানের এমন দুর্ঘটনার পর ভেঙে পড়েছেন মা। সারা দিন ছেলেকেই সময় দিচ্ছেন তিনি। সবসময় সাইফের সঙ্গে থাকতে হচ্ছে মাকে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইফকে দেখতে গিয়েছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এ সময় তার হাতে এক লাখ টাকা তুলে দেন তিনি। তখন শিশুটিকে সরকারের পক্ষ থেকে কৃত্রিম হাত লাগিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতালকে বলা হয়েছে সুমনের যখন ১৮ বছর হবে তখন তার কৃত্রিম হাত লাগিয়ে যেন দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, আমরা ঘটনার প্রথম দিন থেকেই তার খেয়াল রাখছি। সামনের দিগুলোতেই তার যেকোনও সমস্যায় আমরা পাশে আছি। গত সপ্তাহে হাসপাতালে তার ড্রেসিং করা হয়েছে, তখনও আমাদের লোক সেখানে উপস্থিত ছিল। যখন যেটা প্রয়োজন সেটিই আমরা করার চেষ্টা করছি।

পরিবারের লোকজন শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা পড়েছে, চিড়িয়াখানার পক্ষ থেকে স্থায়ীভাবে কোনও সহযোগিতা করা হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তো বলেছি তার খোঁজ-খবর রাখবো। আমরা তার পাশে থাকবো।

 







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ