শনিবার ১৬ মে ২০২৬ ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপালি পর্দার ‘থালাপতি বিজয়’ এখন চেন্নাইয়ের মুখ্যমন্ত্রী

বিনোদন ডেস্কঃ দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন সূর্যোদয়। চলতি বছরের ১০ মে দিনটি তামিলনাড়ুর ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। রূপোলি পর্দার ‘থালাপতি’ এখন বাস্তবের মুখ্যমন্ত্রী। চেন্নাইয়ের রাজভবনে এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন বিজয়। কিন্তু এই রাজকীয় সাফল্যের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে এক যন্ত্রণাদায়ক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ছেলের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না তার বাবা প্রখ্যাত পরিচালক এস এ চন্দ্রশেখর।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যখন বিজয়ের নাম ঘোষিত হচ্ছিল, তখন গ্যালারিতে বসে অঝোরে কাঁদছিলেন বৃদ্ধ বাবা। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করেন ৫২ বছর আগের সেই দিনগুলোর কথা। ১৯৭৪ সাল, বিজয়ের জন্ম হয়েছিল চরম অভাবের মধ্যে। চন্দ্রশেখর তখন ইন্ডাস্ট্রিতে একজন সাধারণ সহকারী পরিচালক। এমনও দিন গিয়েছে যখন পরিবারের মুখে দুবেলা দুমুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার সামর্থ্য তার ছিল না। ডাল-ভাতের সংস্থান করতেও হিমশিম খেতে হত তাকে। সেই অভাবী পরিবারের সন্তান আজ রাজ্যের ভাগ্যবিধাতা— এই প্রাপ্তিই চন্দ্রশেখরের চোখের জল হয়ে ঝরে পড়ল।

Ad

রজনীকান্ত বা কমল হাসানের মতো কোনো বড় ‘গডফাদার’ ছাড়াই বিজয় ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছিলেন। শুরুর দিকে তার অভিনয় ও লুক নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। কিন্তু ‘গিল্লি’ সিনেমার আকাশছোঁয়া সাফল্য সব সমীকরণ বদলে দেয়। সাধারণ ঘরের ছেলেটি হয়ে ওঠেন তামিলদের হৃদস্পন্দন— ‘থালাপতি’। সিনেমা থেকে রাজনীতিতে আসার এই দীর্ঘ পথচলায় বাবা চন্দ্রশেখর সবসময় ছায়ার মতো তার পাশে ছিলেন।

আগামীর তামিলনাড়ু নিয়ে বিজয়ের ডায়েরিতে রয়েছে অসংখ্য জনমুখী পরিকল্পনা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের খোলনলচে বদলে দিতে চান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের এই যাত্রা সহজ হবে না ঠিকই, তবে তার বাবার মতে, বিজয় কেবল পর্দার ‘অ্যাকশন হিরো’ নন, তিনি বাস্তবের প্রশাসনিক লড়াইয়েও জয়ী হতে জানেন। তামিলনাড়ুর মানুষ এখন তাদের প্রিয় ‘থালাপতি’র হাত ধরে এক নতুন ভোরের অপেক্ষায়।