সোমবার ০৮ জুন ২০২৬ ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সচেতন না হলে যক্ষা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়,ডা: আব্দুল্লাহ আল মামুন

 

শিমুল অধিকারী সুমন, হাইমচর(চাঁদপুর) প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের হাইমচরে জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, ব্র্যাক হেলথ প্রজেক্ট ( বি এইচ পি) এর আওতায়, গ্রাম ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট, স্যাকমো ও স্বাস্থ্য সহকারীদের নিয়ে যক্ষা বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত।

Ad

১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কক্ষে গ্রাম ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট, স্যাকমো ও স্বাস্থ্য সহকারীদের নিয়ে যক্ষা বিষয়ক আলোচনা করা হয়েছে।

ব্রাক এর প্রোগ্রাম অফিসার আব্দুল বাতেন এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ড: আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, যক্ষা এখন আর মরণ ব্যাধি নয়। নিয়মিত চিকিৎসায় যক্ষা নিরাময় সম্ভব তবে যক্ষা রোগী শনাক্ত করা সকলের সামাজিক নৈতিক দায়িত্ব। স্বাস্থ্য সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকে যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে যক্ষা রোগী শনাক্তকরণে সহযোগিতা না করেন তাহলে যক্ষার নির্মূল করা সম্ভব নয়। যক্ষা এক রোগী থেকে একাধিক রোগীর মধ্যে ছড়িয়ে যাওয়ায় রোগী সনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। সনাক্ত করা রোগীর আশেপাশের সকলকেই যক্ষার পরীক্ষা করাও অত্যন্ত জরুরী। তাই হাইমচর উপজেলা যক্ষা মুক্ত করতে হলে সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে রোগী সনাক্তকরণে সহযোগিতার মাধ্যমে। শনাক্ত হলেই যক্ষা নির্মূল করা সম্ভব।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক বেনজির মুন্সি বলেন, সরকারি স্বাস্থ্য কর্মীরা জন্মের পর পরই রোগ নিয়ন্ত্রণ টিকা দিয়ে থাকে। সকলে যেন রোগ নিয়ন্ত্রক টিকার আওতায় আসতে পারে সেইদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। দুই সপ্তাহের বেশি কাশি হলে অবশ্যই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্র্যাকের সহায়তায় পরিক্ষা করে নেওয়া জরুরি। উপজেলায় ১১ টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ২টি ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ক্লিনিকের কর্মীরা যক্ষা নিয়ন্ত্রণে কফ পরীক্ষা করার জন্য সব সময় পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী, জসীম উদ্দীন বলেন, নিয়মিত ওষুধ সেবনে যক্ষা নিয়ন্ত্রণ হয়। যক্ষা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে রোগী শনাক্তের পাশাপাশি অবশ্যই নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে তাহলেই যক্ষা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

ল্যাব টেকনোলজিস্ট, অমিত সরকার বলেন, রোগী সনাক্ত করতে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি। সকলেই রোগী সনাক্ত করতে সহযোগিতা করলেই যক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

ব্র্যাক এর মাঠ কর্মকর্তা, হুমায়ন কবির বলেন, গ্রাম গঞ্জ পাড়া মহল্লায় ঘুরে ঘুরে গ্রাম্য ডাক্তার সহ সকলের সহযোগিতা রোগী সনাক্তর চেষ্টা অব্যাহত আছে। বর্তমানে ১৩৬ জন রোগীর চিকিৎসা চলমান রয়েছে। এরমধ্যে ঔষধ প্রতিরোধী রোগী ২ জন, পুরুষ ৭২ জন, মহিলা ৬২ জন, শিশু ২ জন। আমাদের কর্মীর সহায়তায় ব্র্যাক এর পক্ষ থেকে ওষুধ বিতরণ ও কর্মীর সম্মুখে ওষুধ খাওযানো নিশ্চিত করতে সব সময় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি সকলের সহযোগিতায় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

উক্ত সভায় গ্রাম ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট, স্যাকমো সহ স্বাস্থ্যকর্মীরা বক্তব্য রাখেন ।